বার্মি আর্মির ‘জনসন–প্রেম’!


২৫ ওভার বল করে উইকেটশূন্য। রান দিয়েছেন ১১১। সেই মিচেল জনসনকেই কিনা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন গ্যালারিসুদ্ধ দর্শক! কার্ডিফে এবারের অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ইংলিশ সমর্থকদের কাছ
থেকে এমনই ‘সমাদর’ পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার। টুপি খুলে পাল্টা অভিবাদন জানিয়ে জবাবটাও খারাপ দেননি। দেবেনই বা না কেন? ইংলিশ দর্শকদের সঙ্গে জনসনের ‘সখ্য’ যে বেশ পুরোনো। 
মিচেল জনসন ইংলিশ সমর্থকদের সংগঠন ‘বার্মি আর্মির’ ঠাট্টার লক্ষ্যবস্তু অনেক দিন ধরেই। কিন্তু দৃশ্যপট বদলে যায় ২০১৩-১৪ অ্যাশেজের পর। সে সিরিজে ৩৭ উইকেট নিয়ে ইংলিশ শিবিরে ভীতির মন্ত্র পৌঁছে দেন জনসন। এবারের অ্যাশেজেও পুরোনো সখ্যটা ফিরে এসেছে নতুন করে। কার্ডিফে অমন ‘অভিবাদন’ পাওয়ার পরের টেস্টেই জনসন যে তাঁর রুদ্ররূপটা দেখালেন। ইংলিশ দর্শকদের সঙ্গে বিদ্যমান অম্লমধুর সম্পর্কটা তাতে আবারও জেগে উঠল। 
জনসন অবশ্য ইংলিশ দর্শকদের বিদ্রূপকে প্রশংসা হিসেবেই দেখেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনেকটা কাকতাড়ুয়ার! দর্শকদের মনোযোগ নিজের দিকে নিতে পারলেই যে সতীর্থরা মাঠে নিজের কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারে। 
বোলিং করতে যাওয়া মাত্রই গ্যালারির ২৫ হাজার দর্শক যদি একসঙ্গে ঠাট্টা মেশানো সুরে গেয়ে ওঠে, ‘ও বল করে বাঁয়ে, ও বল করে ডানে’, তাহলে কেমন লাগবে? মিচেল জনসন স্বীকার করেছেন, শুরুতে ব্যাপারটা ঠিক স্বস্তিকর না হলেও এখন বেশ ভালোই লাগে, ‘এখন আমি এটাকে প্রশংসা হিসেবেই নিই। ইংল্যান্ড জেতার পরও পুরো গ্যালারি যখন আমার নাম ধরে চেঁচায়, তখন এটিকে আপনার প্রশংসা হিসেবেই নিতে হবে।’ ইংলিশ সমর্থকদের প্রশংসাও করলেন, ‘অসাধারণ দর্শক ওরা। ক্রিকেট খেলাটা খুবই উপভোগ করে।’ 
মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের শশব্যস্ত করে রাখা অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়েরা নাকি জনসনকে অনুরোধও জানান দর্শকদের ব্যস্ত রাখতে! যা করতে আনন্দই পান জনসন, ‘মনে হয় এই ধকলটা নিতে পারি আমি। অন্যদের থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারি আমি। কাজটা করে ভীষণ আনন্দও পাই।’
আনন্দ পান বলেই এজবাস্টন টেস্টে মাঠ থেকে নানা অঙ্গভঙ্গি করে দর্শকদের ‘উৎসাহ’ও দিয়ে গেছেন জনসন। গার্ডিয়ান, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

Comments

Popular posts from this blog

রাহুল-রোহিত-কোহলির ব্যাটে ভারতের দিন

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনে ক্রিকেটার শাহাদাত-স্ত্রী অভিযুক্ত