শক্তিশালী ভারতের সামনে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ



ওয়ানডেতে যতটা সমীহ জাগানো দল বাংলাদেশ, ততটা তারা নিষ্প্রভ টি-টোয়েন্টিতে। এই সংস্করণের ক্রিকেটের ভাষা এখনও বুঝে উঠতে পারেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার দলটি। টি-টোয়েন্টির অলিগলি চিনতে অবশ্য চেষ্টার কমতি নেই তাদের। সেই পথে কতটা এগোনো গেল তারই প্রথম পরীক্ষা হবে ভারতের বিপক্ষে।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারতের এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। প্রথমবারের মতো এবারের এশিয়া কাপ হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।  
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে কম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি বাংলাদেশ। দল আর কম্বিনেশন নিয়ে পরীক্ষার সেই পর্ব শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। বিশ্বকাপের আগে এই সংস্করণে এখন নিজেদের যতটা সম্ভব শাণিত করাই লক্ষ্য তাদের। গত কিছু দিন টানা টি-টোয়েন্টির আবহে থাকায় এই সংস্করণে ভালো করার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বাংলাদেশের।
অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, এশিয়া কাপে আগ্রাসী ক্রিকেটই হবে তাদের লক্ষ্য। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য জয়-পরাজয় নিয়ে ততটা ভাবছেন না। টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে এশিয়া কাপ থেকে যতটা সম্ভব আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে চান তিনি।
খুলনা, চট্টগ্রামে দুটি অনুশীলন ক্যাম্পে স্কিল আর টি-টোয়েন্টির কৌশল নিয়ে শিষ্যদের সঙ্গে কাজ করেছেন কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। ওয়ানডের বাংলাদেশের চেহারায় টি-টোয়েন্টি দলকে দেখতে চান তিনি। ঘাম ঝরানো প্রস্তুতিতে কতটা কাজ হয়েছে তার ধারণা এশিয়া কাপ থেকেই পেয়ে যাবেন তিনি।
মাশরাফিদের সামনে এখন সময় এসেছে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের মেলে ধরার। তার প্রথম পরীক্ষায় শক্তিশালী ভারতকে পেয়ে খুশিই স্বাগতিক অধিনায়ক। তিনি মনে করেন, ভারতের বিপক্ষে ভালো করলে পুরো টুর্নামেন্টের রসদ পেয়ে যাবেন তারা। সেটা কাজ করবে বিশ্বকাপেও।
গত বছর দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সুখস্মৃতি এবারও ভালো খেলতে আত্মবিশ্বাস যোগাবে মাশরাফিদের। সেবার অতিথিদের একই কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার মুস্তফিজুর রহমান। ভারতের সহ-অধিনায়ক বিরাট কোহলি মনে করছেন, এবারের এশিয়া কাপেও মুস্তাফিজই হবেন বাংলাদেশের জন্য বড় ‘ফ্যাক্টর’।
প্রথম ম্যাচে মুস্তাফিজের সঙ্গে পেস আক্রমণে থাকবেন মাশরাফি ও আল আমিন হোসেন। আবু হায়দার ও তাসকিন আহমেদকে বাইরেই থাকতে হতে পারে।
সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে এশিয়া কাপে খেলছেন না বাংলাদেশের নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তার জায়গায় দলে আসা ইমরুল কায়েসকে প্রথম ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকতে হতে পারে। সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে পারেন মোহাম্মদ মিঠুন।
অফ স্পিন অলরাউন্ডার নাসির হোসেনকে ভারত ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকতে পারে। শেষে ঝড় তোলার জন্য এই ম্যাচে একাদশে থাকতে পারেন তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান।
স্পিন আক্রমণ সাকিব আল হাসানের সঙ্গী হবেন দলের একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার আরাফাত সানি। সাব্বির রহমান ও মাহমুদউল্লাহকে দিয়েও কয়েক ওভার করাতে পারেন মাশরাফি। 
পরিসংখ্যান বলছে টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা শুরু আর শেষটায়। বেশিরভাগ সময়ে এই দুই ক্ষেত্রে তালগোল পাকায় তারা। ২০১৪ সাল থেকে প্রথম ছয় ওভারে বাংলাদেশের স্ট্রাইক রেট ১১২, যা পাকিস্তানের পর টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর দ্বিতীয় বাজে।
শেষ চার ওভারেও ঝড় তুলতে পারেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ২০১৪ সাল থেকে এই সেই ওভারগুলোতে তাদের স্ট্রাইক রেট ১৩২.৩৩, যা টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বাজে। শুরুতে রানের গতি বাড়াতে সাব্বিরে সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ। আর শেষে ঝড় তুলতে বেছে নেওয়া হয়েছে তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুলকে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অনিশ্চিত ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তার জায়গায় উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে পারেন পার্থিব প্যাটেল।
দারুণ ছন্দে আছেন ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। এতে অবশ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ম্যাচ অনুশীলনে বেশ ঘাটতি রয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া স্পিনাররা বুধবার বাংলাদেশের জন্য হতে পারেন সবচেয়ে বড় হুমকি। এই লড়াই-ই ম্যাচের গতি প্রকৃতি নির্ধারণ করে দিতে পারে।

Comments

Popular posts from this blog

রাহুল-রোহিত-কোহলির ব্যাটে ভারতের দিন

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনে ক্রিকেটার শাহাদাত-স্ত্রী অভিযুক্ত